অরক্ষিত টাঙ্গুয়ার হাওর, অবাধে চলছে মৎস্য আহরণ

0
80
unikbd

টাইফুন মিয়া
তাহিরপুর প্রতিনিধি

নামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বাংলাদেশর দ্বিতীয় রামসার সাইট নামে খ্যাত টাংগুয়ার হাওরে অবাধে চলছে অবৈধভাবে মৎস্য শিকার।

জীববৈচিত্রের লীলাভূমি টাঙ্গুয়ার হাওর পক্ষীকূল ও মৎস্যকূলের একমাত্র অভয়ারণ্য স্থান। স্থানীয় লোকজনের কাছে হাওরটি “নয়কুড়ি কান্দার ছয়কুড়ি বিল” নামে পরিচিতি থাকলেও একসময়ে মিঠা পানির মৎস্য ভান্ডার হিসেবে বেশ খ্যাতি ছিলো এর। অথচ আজ এই টাংগুয়ার হাওর যেন এক বিরাণ ভূমি। হাহাকার করছে এর প্রতিটি দূর্বাঘাস, প্রতিটি বৃক্ষের কণা আর বেঁচে থাকার তীব্র আকাঙ্খা মৎস্যকূলের। নেই আগের মত মাছ, নেই চিরচেনা জীববৈচিত্রের হাতছানি। হাওরের প্রাকৃতিক রূপ-লাবণ্য মরিচীকা প্রায়।

দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের ভীড় জমে এই হাওরে। প্রায় ১০০কি.মি বিস্তৃত এই হাওরটির অপার সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয় কতো শত দর্শনার্থী। ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথে প্রকৃতি যখন নতুন রুপে সজ্জিত হয়, ঠিক তখনই কিছু অসাধু জেলে অবৈধভাবে ঠেলা জালি দিয়ে চিংড়িসহ বিভিন্ন প্রজাতির ডিমওয়ালা মাছ ও পোনামাছ আহরণ করে ধ্বংস করছে মৎস্যকূল।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চৈত্রের প্রখর রৌদ্রের উত্তাপ হতে পরিত্রাণ পেতে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়া শত প্রজাতির মাছগুলো টাংগুয়ার হাওরের পার্শ্ববর্তী তরং ও শিবরামপুর গ্রামের কিছু অসাধু জেলেদের নির্মমতার স্বীকার হচ্ছে। এতে করে ধ্বংস হচ্ছে টাংগুয়ার হাওরের জলজ উদ্ভিদ।

স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, এইসব জেলেরা টাংগুয়ার হাওরের পার্শ্ববর্তী পাঠলাই নদীর খেয়া পার হয়ে হাওরে প্রবেশ করে। এসময় ছোট্ট খেয়া নৌকায় অতিরিক্ত জেলে কোনঠাসা হয়ে একত্রে উঠার ফলে হাওরের পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর বাজারে চিকিৎসা নিতে যাওয়া জরুরি রোগীরা ভোগান্তির সম্মুখীন হন। এছাড়াও মাত্রাতিরিক্ত জেলেদের কোনঠাসার ফলে করোনা ভাইরাসের পাদুর্ভাব বৃদ্ধিসহ খেয়া পারাপারে থাকা শিশুরা পানিতে ডুবে মরে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

একদিকে প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে, অপরদিকে বিশ্ব আতঙ্ক ভয়ানক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অকারণে বাহিরে ঘোরা ও গণমজায়েতের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে ঝাঁকে ঝাঁকে অসাধু জেলেরা ঝাঁপিয়ে পড়ছে হাওরের মাছ নিধনে। দলবদ্ধভাবে মাছ ধরতে আসা এই জেলেদের দ্বারা করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ভয়ে উদ্বেগ, উৎকন্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন হাওরপাড়ের মানুষ। এদের বিরুদ্ধে টাংগুয়ার হাওরে নিয়োজিত আনসার বাহিনীও নিচ্ছেন কোনো যথাযথ পদক্ষেপ।

এ ব্যাপারে টাংগুয়ার হাওরে কর্তব্যরত আনসার বাহিনীর পিসি দৌলত হুসাইন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব অবৈধ জেলেদের বিরুদ্ধে আমি বেশ কয়েবার ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে আমি কিছুদিন যাবৎ ছুটিতে থাকায় এখন হাওরে কি হচ্ছে না হচ্ছে সে বিষয়ে আমি অবগত না।

মন্দিয়াতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সানজু মিয়া বলেন,
মৎস্য প্রজননের এই মৌসুমে পোনা নিধনের ফলে মাছের বৃদ্ধি ব্যহত হচ্ছে। এর ফলে খুব শীঘ্রই টাংগুয়ার হাওরের মৎস্য প্রজাতি শূন্যের কৌটায় চলে আসবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে টাংগুয়ার হাওরে নিয়োজিত নির্বাহী মাজিস্ট্রেট এর সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে খোঁজ নিয়ে জানা যায় বর্তমানে কর্মরত নির্বাহী রেজিস্ট্রেট নেই।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজেন ব্যানার্জী’র কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি অবগত না, তবে যেহেতু এখন শুনেছি খুব শীঘ্রই যথাযথ আইনী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

unikbd

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে