সদর হাসপাতালে দুর্নীতি : মানব বন্ধনে ছাত্রলীগের বাধা

0
4
unikbd

নিজস্ব প্রতিবেদক: সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের পূর্ব নির্ধারিত মানববন্ধন কর্মসূচি ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বাধার মুখে পণ্ড হয়েছে। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে’র নেতৃত্বে তার অনুসারীরা এই কর্মসূচিতে বাধা দেন। সোমবার সকাল ১১টার দিকে শহরের আলফাত স্কয়ারে ঘটনাটি ঘটে।


সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সেবাকে ব্যাহত করছে। এর প্রতিবাদে গত এক মাসে চারটি মানববন্ধন ও একটি প্রতিবাদ সভা করেছেন নাগরিকরা। তারা এসব কর্মসূচিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কসহ হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার সকালে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।


প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকালে শহরের আলফাত স্কয়ারে আন্দোলনকারীরা জড়ো হতে থাকেন। বেলা ১১টায় ‘হাসপাতালে দুর্নীতি দমন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ কমিটি’র ব্যানারে জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক এনামুজ্জামান চৌধুরী’র নেতৃত্বে রাজনৈতিক কর্মী, ছাত্র-জনতা মানববন্ধনে দাঁড়ালে ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে’র নেতৃত্বে তার অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা এসে বাধা দেন এবং কর্মসূচি পালনে নিষেধ করেন। এতে আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এসময় অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশও ঘটনাস্থলে এসে মানববন্ধন না করতে আন্দোলনকারীদের অনুরোধ জানান। পরে আলফাত স্কয়ার থেকে এলাকা থেকে মানববন্ধন কর্মসূচি সরিয়ে আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে গেলে সেখানেও বাধা দেয় পুলিশ। শেষে আন্দোলনকারীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করেন। তারা স্বাস্থ্য বিভাগের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অপসারণের দাবিও জানান।
‘সদর হাসপাতালে দুর্নীতি দমন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ কমিটি’র আহ্বায়ক ইনামুজ্জামান চৌধুরী এনাম জানান, জনগণের ভোগান্তি লাঘবে সদর হাসপাতালের অনিময়-দুর্নীতির বিরুদ্ধে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু কোন কারণ ছাড়াই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতির নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা এসে মাননবন্ধনে বাধা দেন।


তিনি আরো জানান, বাধা পেয়ে আমরা জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গণে গিয়ে মানববন্ধন করতে চাইলে সেখানেও আমাদের বাধা দেয়া হয়। পরে আমরা বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করতে তার কার্যালয়ে যাই। কিন্তু তাকে না পেয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে হাসপাতালের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়গুলো জানাই। আগামী বুধবার গণস্বাক্ষর সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমাদের বলা হয়েছে। ওইদিনই আমরা স্মারকলিপি প্রদান করবো।


অপরদিকে, হাসপাতালে দুর্নীতি দমন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিতকরণ কমিটির আহ্বায়ক এনামুজ্জামান চৌধুরী প্রেসব্রিফিংয়ে জানান, তারা স্বাস্থ্য বিভাগে দুর্নীতির প্রতিবাদে মানববন্ধনের আয়োজন করেছিলেন। মানববন্ধনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিতেই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে ও তার সঙ্গীরা অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে বিশৃঙ্খলা তৈরি করে। তাদের উচ্ছৃঙ্খলতা এতোই ছিল যে পুলিশ াহিনী সামাল দিতে হিমশিম খায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক সুনামগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ও পুলিশ সুপারকে জানানো হয়।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি দীপঙ্কর কান্তি দে বলেন, মানববন্ধনে বিএনপি-জামায়াতের লোকজন ছিল। তাছাড়া এই মানববন্ধনে মামলার আসামি ছাত্রদল নেতাও ছিল। তারা মানববন্ধনে সরকারবিরোধী কথাবার্তা বলায় ছাত্রলীগ অবস্থান নেয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে এর প্রতিবাদ করা হয়।


জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক আহমেদ সুজন বলেন, দুর্নীতিবিরোধী মানববন্ধনে জামায়াত-বিএনপির কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। আমরা সচেতন সুনামগঞ্জবাসী সদর হাসপাতালের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছি। মানববন্ধনে বাধা দেয়ার ঘটনাটি নিন্দনীয়। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. হায়াতুন্নবী বলেন, ছাত্রলীগ ও মানববন্ধনকারীরা মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় আমরা মধ্যস্ততা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেছি। তবে আদালত চত্বরে আবারও মানববন্ধনের চেষ্টা করা হলে আমরা বাধা দিয়েছি। কারণ সংরক্ষিত এলাকায় কেউ কর্মসূচি পালন করতে চাইলে অনুমতি নিতে হয়।

unikbd

একটি মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে